বিজ্ঞানে পাঁচ নারী

Ela
Ela
11 Min Read

মানুষের এ পৃথিবীতে যুগে যুগে পৃথক থেকে পৃথকতর করা হয়েছে নারী-পুরুষকে। নারীকে সামাজিক সাংস্কৃতিক শেকলে বাঁধা হয়েছে শত শত বছর ধরে। এই শেকল পায়েই বিভিন্ন সময় নারীরা বেরিয়ে এসেছেন কূপমণ্ডুকতা থেকে, প্রমাণ করেছেন নিজেদের কৃতিত্ব। জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি সেক্টরে নারী বীরদর্পে হেঁটেছেন। যদিও তাদের এ পদচারণা পাপড়িসমৃদ্ধ সুগম পথে ছিলো না, বরং ভোগ করতে হয়েছে নিদারুণ যন্ত্রণা। বিজ্ঞানে নারীর অবদান নিয়ে লিখতে গিয়ে দেখলাম এ লেখা কোনভাবেই ছোট কলামে ধারণ সম্ভব নয়। অথচ শিশুকাল থেকে আমরা বিজ্ঞানী মানেই জেনে এসেছি বহু জ্ঞানী পুরুষের নাম। এ লেখায় মাত্র পাঁচজন নারীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যাঁরা বিজ্ঞানে রেখেছেন অসামান্য অবদান।

হাইপেশিয়া (৩৭০ খ্রিষ্টাব্দ মার্চ-৪১৫ খ্রি.)

হাইপেশিয়া বিখ্যাত মিশরীয় নব্য প্লেটোবাদী দার্শনিক এবং গণিতজ্ঞ। নারীদের মধ্যে তিনিই প্রথম উল্লেখযোগ্য গণিতজ্ঞ। একাধারে তিনি ছিলেন গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও দার্শনিক। এই নারী আলেক্সান্দ্রিয়া গ্রন্থগারের শেষ প্রাণ প্রদীপ হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি নাটকও লিখতেন। সুডা লেক্সিকন নামক দশম শতাব্দীর একটি বিশ্বকোষের বর্ণনামতে, তিনি কয়েকটি পুস্তকের উপর ভাষ্য রচনা করেন। এর মধ্যে রয়েছে: আলেক্সান্দ্রিয়ার ডায়োফ্যান্টাস রচিত এরিথমেটিকা ও পার্গার অযপোলোনিয়াস রচিত কনিক্স। এই বইগুলো পরে আর পাওয়া যায়নি। তবে ‘এরিথমেটিকা’ বইটির বর্ধিত আরবি সংস্করণে তার ভাষ্য সম্বন্ধে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। তিনি ৪০০ সালের দিকে নব্য প্লেটোনিক ধারার স্কুলের প্রধান হয়েছিলেন এবং খ্রিষ্টান ধর্মসহ তখনকার ধর্মগুলো সম্পর্কে অবগত ছিলেন। কিন্তু তা তাকে আকর্ষণ করতে পারে নি। তিনি বলেছিলেন- ‘পরিণত বুদ্ধির জাতির জন্য থাকা উচিত যুক্তিসহ জ্ঞানভিত্তিক ধর্ম, যা ছিল গ্রিকদের’। তৎকালীন সময়ে এ ধরনের শিক্ষাকে প্যাগান রীতিনীতি ও সংস্কৃতির সাথে একীভূত মনে করা হত এবং এর ফলে জ্ঞানের বিকাশের পথে বাঁধার সৃষ্টি হয়। এ কারণে তাকে অনেক প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে হয়। তার দুটি বিখ্যাত উক্তি থেকে তার দর্শনের অকাট্যতা বোঝা যায়:

১. ‘তোমার চিন্তা করার অধিকার সংরক্ষণ কর। এমনকি ভুলভাবে চিন্তা করা একেবারে চিন্তা না করা থেকে উত্তম’।

২. ‘কুসংস্কারকে সত্য হিসেবে শিক্ষা দেয়া একটি ভয়ংকরতম বিষয়’।

৪১৭ খ্রিষ্টাব্দের কোনো এক দিনে খ্রিষ্টান ধর্মান্ধরা এই মহীয়সী নারীকে হত্যা করে নির্মমভাবে। বর্ণনামতে, রথে করে ফেরার পথে উন্মত্ত জনতা তার ওপর হামলা করে এবং হত্যার পর তার লাশ কেটে টুকরো টুকরো করে রাস্তায় ছড়িয়ে দেয়। তার দেহ যখন খ্রিষ্টান ধর্মান্ধরা ছিন্নভিন্ন করছিল তখন একবারের জন্য চেঁচিয়ে, কেঁদে মিনতি করে জীবন ভিক্ষা চেয়ে নিজের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেন নি। অনেক বিশেষজ্ঞই তার মৃত্যুকে প্রাচীন আন্তর্জাতিক শিক্ষাকেন্দ্র আলেক্সান্দ্রিয়ার পতন ও মধ্যযুগীয় অন্ধকারের সূচনাকাল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন যাঁর মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া গ্রন্থাগারের হাতে লেখা পাঁচ লক্ষ বইয়ের ধ্বংসের কাহিনি।

মেরি কুরি (১৮৬৭ সালের ৭ নভেম্বর-১৯৩৪ সালের ৪ জুলাই)

মেরি কুরি ১৮৬৭ সালের ৭ নভেম্বর পোল্যান্ডের ওয়ার্সাতে জন্মগ্রহণ করেন। যেটি তখন রাশিয়ান সাম্রাজ্যের অংশ ছিলো। তিনি ওয়ার্সার গোপন ভাসমান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছিলেন এবং ওয়ার্সাতেই তার ব্যবহারিক বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন। ১৮৯১ সালে ২৪ বছর বয়সে তিনি তাঁর বড় বোন ব্রোনিস্কাভাকে অনুসরণ করে প্যারিসে পড়তে যান। পরবর্তীতে বিজ্ঞানী পিয়েরা কুরির সাথে তাঁর সংযোগ হয় এবং তারা বিয়েও করেন। তাঁর জীবনে পিয়েরা কুরির প্রভাব অনেক। ১৯০৩ সালে মারি কুরি তার সঙ্গী পিয়েরে কুরি এবং পদার্থবিদ হেনরি বেকেরেলের সাথে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার জেতেন তেজষ্ক্রিয়তা নিয়ে কাজ করার জন্য এবং তিনি এককভাবে ১৯১১ সালে রসায়নেও নোবেল পুরস্কার জেতেন পিচব্লেন্ড থেকে রেডিয়াম পৃথক করার জন্য।

মেরি কুরি প্রথম নারী এবং একইসাথে ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি যিনি দুবার নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। মেরি কুরি অর্ধেক রক্তশূন্যতায় আক্রান্ত হয়েছিলেন; ধারণা করা হয় দীর্ঘদিন দীর্ঘক্ষণ তেজষ্ক্রিয়তার সংস্পর্শে থাকায় তিনি এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁকে সেকাউক্সের সমাধিস্থলে তাঁর সঙ্গী পিয়েরের পাশে সমাহিত করা হয়। ৬০ বছর পর, ১৯৯৫ সালে তাঁদের অবদানকে সম্মান জানানোর অংশ হিসেবে উভয়ের দেহাবশেষ প্যান্থিওনে স্থানান্তর করা হয়। তিনি প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র নারী যিনি নিজ যোগ্যতার ভিত্তিতে প্যান্থিওনে সমাহিত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।

লিসা মাইটনার (১৮৭৮ সালের ৭ নভেম্বর-১৯৬৮ সালের ২৭ অক্টোবর)

বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানমহলে সম্ভবত সবচেয়ে অবহেলিত নাম লিসা মাইটনার। গোটা জীবনটাই তাঁর কেটেছে চরম লিঙ্গবৈষম্য, অবিচার ও বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে লড়াই করে। সমস্ত প্রতিকূলতাকে পিছনে ফেলে রেখে তিনি নিজের যোগ্য জায়গা করে নিয়েছিলেন পুরুষপ্রধান বিজ্ঞান জগতে। লিসা মাইটনারের জন্ম ১৮৭৮ সালের ৭ নভেম্বর অস্ট্রিয়ার এক ইহুদী পরিবারে। পরবর্তীকালে এই ইহুদি হওয়ার জন্যই তিনি বাধ্য হয়েছিলেন হিটলারের একনায়কতন্ত্রে জর্জরিত জার্মানি ছেড়ে পালাতে। পদার্থবিদ্যা নিয়ে তাঁর পড়াশুনা শুরু হয় ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং পরবর্তীকালে ১৯০৫ সালে পদার্থবিদ্যায় ডক্টরেট উপাধিও লাভ করেন ওই একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তিনি ছিলেন ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট অর্জন করা দ্বিতীয় নারী বিজ্ঞানী। লিসা মাইটনার ছিলেন অপরূপা নারী। তাঁর রূপের জন্য অন্য বিজ্ঞানীদের মনোযোগ নষ্ট হবে এ ব্যাখ্যা দিয়ে তাকে এমিল ফিশার ইন্সটিটিউটে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। তিরিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধু অটো হান এবং লিসা একজোট হয়ে কাজ করেছিলেন। দু’জনের মধ্যে তৈরি হয়েছিল এক প্রগাঢ় বন্ধুত্বের সম্পর্ক। প্রকট লিঙ্গ বৈষম্যের সেসময়কালের গোড়ার কয়েকটা বছর লিসা তাঁর পারিশ্রমিকই পেতেন না, পরে যা-ও বা পেতেন তা ছিল অটো হানের পারিশ্রমিকের তুলনায় নিতান্তই সামান্য। তবে তাঁদের যৌথ প্রয়াস বিজ্ঞানের জগতে এনে দেয় দারুন কিছু ফলাফল। যেমন, ১৯১৮ এ প্রোট্যাক্টিনিয়াম নামে নতুন মৌলের আবিষ্কার। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান হলো ১৯৩৮ সালে নিউক্লিয়ার ফিশনের আবিষ্কার। কিন্তু ১৯৪৪ সালে সহকর্মী অটো হানকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হলেও অনুচ্চারিত থেকে যায় লিসার নাম। তাঁর নির্বাসন এবং বার্লিনে গবেষকদের দল থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে এই তত্ত্ব উদ্ভাবনে লিসার প্রধান ভূমিকার কথা বুঝতে পারেননি নোবেল পুরস্কারদাতারা। নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে এই বড় ভুলকে চিহ্নিত করা হয় “নোবেল মিসটেক” হিসেবে। লিসা পুরো জীবন কাটিয়েছেন যুদ্ধের বিপক্ষে সংগ্রাম আর বিজ্ঞান প্রচার করে। তিনি কেমব্রিজে গিয়ে অবশেষে অবসর নেন এবং সেখানেই ১৯৬৮ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর সমাধিপ্রস্তরে তাঁর উদ্দেশ্যে ভাগ্নে অটো ফ্রিশের লেখা শব্দগুলি আজও পড়া যায়: “লিসা মাইটনার: এক পদার্থবিজ্ঞানী যিনি কখনো তাঁর মনুষ্যত্ব হারান নি।” ১৯৯৭ সালে তাঁকে সম্মান জানিয়ে তাঁর নামানুসারে মৌল ১০৯ এর নাম দেওয়া হয় মাইটনারিয়াম (গঃ)।

রোজালিন ফ্রাঙ্কলিন (১৯২০ সালের ২৫ জুলাই-১৯৫৮ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি)

রোজালিন ফ্রাঙ্কলিন ১৯২০ সালে একটি স্বচ্ছল ইহুদি পরিবারের জন্মেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন অণুজীববিজ্ঞানী এবং ভৌত রসায়নবিদ। তাকে সবচেয়ে ভালভাবে স্মরণ করা হয় কয়লা, ডি.এন.এ এবং উদ্ভিদ ভাইরাস সংক্রান্ত গবেষণায় তাঁর বিশেষ অবদানের জন্য। তার মতো আর কোনো নারী-বিজ্ঞানীর জীবন এতটা বিতর্কিত এবং কর্মমুখর ছিল না। ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে তিনি ফ্রান্সের প্যারিসে একটি গবেষণাগারে কাজ করেন। এখানেই কেলাসতত্ত্ববিদ জ্যাকস মিরিং-এর সাথে ঘনিষ্টভাবে তিনি গবেষণা করেছিলেন এবং রঞ্জনরশ্মি বিচ্ছিন্নকরণ কৌশল শিখেছিলেন। খুব সাধারণ কিছু সরঞ্জাম নিয়ে ফ্রাঙ্কলিন ডিএনএ-এর একক তন্তুর উচ্চ বিশ্লেষণীয় ফটোগ্রাফ নেয়ার জন্য একটি ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। ১৯৫৩ সালে ডিএনএ’র গঠন কাঠামো আবিষ্কারের মাধ্যমে সারাবিশ্বে দারুণ আলোড়ন তোলেন। রোজালিন ফ্রাঙ্কলিন-এর এই কেলাস সম্পর্কিত কাজ ওয়াটসন, ক্রিক ও উইলকিনস কর্তৃক উপস্থাপিত ডাবল হেলিক্স মডেলের পরীক্ষামূলক সমর্থন যুগিয়েছিল। অথচ জেমস ওয়াটসন, ফ্রানসিস ক্রিক এবং মরিস উইলকিনসকে ডিএনএ-র ডাবল হেলিক্স গঠনের জন্য নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হলেও রোজালিন ফ্রঙ্কলিনকে এই অমূল্য কাজের জন্য কোনো কৃতিত্বই দেয়া হয়নি। অবশ্য এর আগে ১৯৫৬ সালের শরতে রোজালিন ফ্রাঙ্কলিন মাত্র ৩৭ বছর বয়সে জরায়ু ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করেন। তার সহকর্মী নোবেল বিজয়ী ওয়াটসন বলেন- ‘নোবেল পুরস্কারে অলিখিত নিয়ম হলো একসঙ্গে তিনজন প্রাপকের বেশি বিবেচনা করা হয় না। ফ্রাঙ্কলিন বেঁচে থাকলে তাকে না উইলকিন্সকে নোবেল দেয়া হবে এ নিয়ে বিতর্ক হতই। তবে নোবেল কমিটি তাকে এবং উইলকিন্সকে যুগ্মভাবে রসায়নে নোবেল দিতে পারতেন। তার জায়গায় নোবেল গেলো একি ইন্সটিটিউটের ম্যাক্স পেরুজ ও জন কেন্ড্রুর কাছে মায়োগ্লোবিন ও হিমোগ্লোবিনের গঠনকাঠামো ব্যাখ্যা করবার জন্য। আর এই কাজের জন্য আমি এবং ফ্রান্সিস ক্রিক কাজ শুরু করেছিলাম।’ সমালোচকদের মতে, রোজালিন ফ্রাঙ্কলিনের অবদানের জন্য তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পাবার উপযুক্ত ছিলেন। কিন্তু তিনি হয়েছেন বঞ্চিত। তাই ডিএনএ-র গঠন কাঠামো আবিষ্কারের গল্পকে এখনও বলা হয় একটি প্রতিযোগিতামূলক ষড়যন্ত্র।

আডা বায়রন (১৮১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর– ১৮৫২ সালের ২৭ নভেম্বর)

আডা বায়রনকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ধারণার একজন প্রবর্তক বলা হয়। পুরো নাম তাঁর অ্যাডা অগাস্টা কিং, আর ডাকা হতো কাউন্টেস অফ লাভলেস বা শুধুই অ্যাডা লাভলেস নামে। বিখ্যাত এই মেটাফিজিশিয়ান এবং সায়েন্টিফিক গণনার প্রতিষ্ঠাতার জন্ম লন্ডনের সম্ভ্রান্ত পরিবারে। তিনি কবি লর্ড বায়রন ও অ্যানে ইসাবেলে মিলব্যাংকের কন্যা। আডার জন্মের একমাসের মাথায় তার বাবা-মা পৃথক হয়ে যান। তিনি ১৮৪১ সাল পর্যন্ত জানতেন না লর্ড বায়রন তার বাবা। লেডি বায়রন কোনো ভাবে চাননি তার মেয়ে বাবার মতো কাব্যময় হোক। তিনি চেয়েছিলেন অ্যাডা গণিত ও সঙ্গীত শিক্ষার মধ্যদিয়ে বড়ো হোক। কিন্তু অ্যাডার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ঐতিহ্য ১৮২৮ সালের প্রথম দিকে প্রতীয়মান হয়েছিল, যখন তিনি ফ্লাইং মেশিনের নকশা প্রণয়ন করেছিলেন। আর গণিতশাস্ত্র তার জীবনকে দিয়েছিল উড়ে চলার গতি। স্যার চার্লস উইলিয়াম ব্যাবেজ যখন তার ডিফারেন্স মেশিন বা এনালিটিক্যাল এঞ্জিন নামক কম্পিউটার আবিষ্কারের নেশায় মত্ত, তখন অ্যাডা তার গণিতবিষয়ক বিশ্লেষণী ক্ষমতার দ্বারা বুঝতে পেরেছিলেন এই কম্পিউটারগুলোর নাম্বার ক্রাঞ্চিং এর অমিত সম্ভাবনা সম্পর্কে। সে চার্লস ব্যাবেজ তাই লিখে গেছেন তাঁর উবপষরহব ড়ভ ঝপরবহপব রহ ঊহমষধহফ এই বইয়ে। আর এমন একটা সময়ে এই অসামান্য নারী চার্লস ব্যাবেজকে যেসব সম্ভাবনার কথা জানান তা তার কাজকে আরো বেগবান করেছিল। অ্যাডা বায়রনকে এখন বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার ধরা হয়। অ্যাডা মাত্র ৩৬ বছর বেঁচে ছিলেন। ১৮৫২ সালের ২৭ নভেম্বর জরায়ুর ক্যান্সার এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়। এরকম আরো বহু নারীবিজ্ঞানী আছেন যারা বিজ্ঞানে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। কয়েকজনের নাম আমরা জানি, ইতিহাসবেত্তাদের কলমের খোঁচায় যে ইতিহাস রচিত হয় সেখানে বহু নারী রয়ে গেছে পাদপ্রদীপের আড়ালে। আর নারীকে সবসময় দুর্গম পথ চলতে হয়েছে এবং হাজার বাঁধাতেও প্রমাণ করতে হয়েছে সে কোনোভাবেই অযোগ্য দুর্বল নয়। তবুও তা মেনে নিতে নারাজ এ পিতৃতান্ত্রিক সমাজ। অমর নারীবিজ্ঞানীদের আলোয় আমরা নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যাক বিজ্ঞানের আলোয়।

প্রকাশঃ দৈনিক একতা, ২০১৮

লিংকঃ https://weeklyekota.net/?page=details&serial=5867

Share This Article
Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *